আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) একটি সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন। ২০১৩ সাল থেকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে। বাংলাদেশের মাদ্রাসা ছাত্র, গরীব ও বেকার যুবকদের উগ্রপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে জিহাদের নামে স্থানীয় এলাকায় আদিপাত্যের ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। সংগঠনটি তাদের মতাদর্শ প্রচারের জন্য মসজিদকেও ব্যবহার করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো মুক্ত চিন্তার অনুসারী, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট বরগুনা জেলার একটি মসজিদে জঙ্গি হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় সংগঠনটির নেতা মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ ৩০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে হত্যা করে। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাঁরা পরে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। একই বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে এবং ৭ মার্চ সানিউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। এতে অভিজিৎ রায় নিহত ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হন। গত ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াসিকুর রহমানকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিগত সরকার আমলে এদের উপস্থিতি ছিল। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আমির মুফতি জসীম উদ্দীন রাহমানী। ২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ কারাবাসের পর তিনি ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আমলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কার্যক্রম গোপনে এবং ভিন্ন কৌশলে এখনও অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের ফলে প্রকাশ্যে বড় ধরনের কোনো হামলা চালাতে না পারলেও, তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। সুতরাং, সংগঠনটি বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান নাশকতা করতে না পারলেও তাদের আদর্শিক প্রচার এবং গোপনে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা এখনও জারি রেখেছে।
