জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা গত শুক্রবার আত্মহত্যা জাতির সামনে একটি প্রশ্ন রেখে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা আধুনিক সমাজে কতটুকু নিরাপদ?
ক্রমাগত প্রশাসনিক চতুরতা ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শক্তি প্রদর্শনীর কারখানায় পরিণত হচ্ছে। অবন্তিকা আত্মহত্যা করে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল চেহারা জাতির সামনে খুলে দিয়ে গেলেন। অবন্তিকা ফেসবুকে পোস্টে যে সত্য প্রকাশ করে গেছেন, তা পরিষ্কার আত্মহত্যার প্ররোচনাও। এটা আত্মহত্যা না, যৌন নিপীড়নের মাধ্যমে নির্যাতন করে হত্যা, শুধুই নির্বিবাদ আত্মহত্যা হিসেবে দেখাটা হবে একটি ভ্রান্তি এটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডও বটে। কারণ চার মাস আগে অবন্তিকা তাঁর সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে লাগাতার যৌন নিপীড়ন, মানসিক নির্যাতন ও হুমকি–ধমকির লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দিয়ে কোন সুরাহ পায়নি বরং দায়িত্বরত প্রক্টর বা তাঁর সহকারীরা কেউই এ অভিযোগ আমলে নেননি। উল্টো নিপীড়ক শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়ে অবন্তিকাকে ‘ভিক্টিম ব্লেমিংয়ে’র শিকার বানিয়ে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম নিপীড়নমূলক আচরণ ও শ্রবণ–অযোগ্য ভাষায় তিরস্কার করেছেন। এমনকি তিনি অবন্তিকাকে একা পেয়ে শারীরিক লাঞ্ছনা পর্যন্ত করতে চেয়েছেন। মানসিক নিপীড়িত হয়ে ১৪ মার্চ অবন্তিকা কুমিল্লায় যান এবং তার মাকে জানায়, যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ছেড়ে মেসে উঠেছিল সে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে, রায়হান আগের চেয়ে অবন্তিকার সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক কুরুচিপূর্ণ আচরণ করছে।’
অবন্তিকা ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত লিখে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর ফেসবুক পোস্ট ‘সুইসাইড নোটটি’ বাংলাদেশের ফৌজদারি অপরাধ আইনে একটি আমলযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ নথি। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিচার যেন দ্রুততম সময়ে ত্বরান্বিত হয়, তা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে যৌন নিপীড়ি শিকার হয়ে আরো অবন্তিকার মতো সহস্র শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার পথ দাবিত হবে।
যৌন নিপীড়িত হয়ে আর কত অবন্তিকা স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করবে?
See less
