গ্রেপ্তার হিযবুত তাহরীরের সদস্য মোনায়েম হায়দার।
নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের গেল ৭ মার্চের মিছিলে অংশ নেওয়া এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
রোববার রাতে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ২৬ বছর বয়সী মোনায়েম হায়দারকে। তিনি সংগঠনের ‘মতাদর্শ প্রচারকারী ও অন্যতম সংগঠক’।
ডিএমপি বলছে, “মোনায়েম হায়দার বিভিন্ন নামে ফেইসবুকে ভুয়া পেইজ খুলে হিজবুত তাহরীরের উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং গোপনে হিজবুত তাহরীরকে সংগঠিত করে আসছিলেন।”
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ ‘উগ্রবাদী মতাদর্শ’ প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধারের তথ্য দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি গত ৭ মার্চ ঢাকার পল্টনে হিজবুত তাহরীরের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।”
মিছিলের আগে এবং পরে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সংগঠনের পক্ষে যোগাযোগের কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ‘স্বীকার করেছেন’ বলেও দাবি করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি গত ৭ মার্চ বায়তুল মোকারমের সামনে ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এ কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিলেও ৭ মার্চ দুপুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া হিজবুত তাহরীরের মিছিলের তোড়ে একরকম ভেসে যায় পুলিশের প্রাথমিক বাধা।
পরে মিছিলটি পল্টন হয়ে বিজয়নগরের দিকে যাওয়ার পর পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়া শুরু করলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হিযবুত তাহরীর, রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং শরিয়া বাস্তবায়ন যাদের মূল লক্ষ্য।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনই ঢাকায় মিছিল করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরপর আরও নানা দাবিতে মিছিলের পাশাপাশি ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠকও করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রামেও পালন করেছে নানা কর্মসূচি।
সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ইমতিয়াজ সেলিম বিবিসি বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সরকার পতন আন্দোলনে শুরু থেকেই তাদের কর্মীরা অংশ নেন; তবে তারা কোনো ব্যানার ব্যবহার করেননি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে হিযবুত তাহরীরের পোস্টারও লাগানো হয়েছিল।
২০০১ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা হিযবুত তাহরীর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য গত সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে আবেদন করলেও সরকারের তরফে কোনো বক্তব্য আসেনি।
সুত্রঃ বিডি নিউজ ২৪ ডট কম