নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) একজন শীর্ষ জঙ্গি নেতা সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করল বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি ওরফে আতাউল্লাহ। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার র্যাব-১১’ এর একটি দল তিনটি আলাদা আলাদা জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেফতারের পর আসামীদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে তোলা হয়। সেখানে তাদের ২০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। যদিও আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুদ্দিন কাদির গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের ১০ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের সিকদার পাড়ায় আতাউল্লাহর বাড়ি। ১৯৬০ সালের দিকে তাঁর বাবা পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান। সেখানেই জন্ম আতাউল্লাহর। তিনি পড়াশোনা করেন সৌদি আরবের মক্কায়।। সেখানে আরবি ভাষায় তাঁর পড়াশোনা। এর পরে তিনি জঙ্গি সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন। পাকিস্তানের ফিরে জিহাদি জঙ্গিদের কাছে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পরে লিবিয়ায় গিয়ে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাঁকে মায়ানমানের রাখাইন প্রদেশে পাঠায়। সেখানে তাঁকে এই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান করা হয়।
২০১৮ সালের দিকে পুরো আশ্রয়শিবিরের নিয়ন্ত্রণ ছিল আরসার হাতে। সাধারণ রোহিঙ্গারাও আরসাকে নানাভাবে সহযোগিতা দিত। কিন্তু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে বিপাকে পড়ে আরসা। এর ফলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সমর্থন হারাতে থাকে তারা। এরপর আরসা আশ্রয়শিবিরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছিল। আতাউল্লাহসহ আরসার কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তারের খবরে আশ্রয়শিবিরে থাকা আরসা সন্ত্রাসীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে আরএসওসহ অন্য সন্ত্রাসীরা আরসার সন্ত্রাসীদের পালানো ঠেকাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তাতে আশ্রয়শিবিরে নতুন করে সংঘাত-হানাহানি দেখা দিতে
সুত্র: প্রথম আলো