• বর্তমানে দেশের প্রশাসনিক অস্থিরতা ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। নির্দিষ্ট ও কার্যকর সরকারি কাঠামোর অনিশ্চয়তা এবং তদারকির ঘাটতি অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে—এমন অভিযোগ উঠছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।
বিশেষ করে ধর্মের নাম ব্যবহার করা কিছু ভণ্ড হুজুর সমাজে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
নিজেকে ধর্মীয় শিক্ষক ও আধ্যাত্মিক নেতা পরিচয় দিয়ে এরা— মাদ্রাসা ও খানকার আড়ালে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ধর্ষণ,তাবিজ-কবজ ও রুহানি চিকিৎসার নামে ভয়াবহ প্রতারণা,অনুসারীদের মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ,
মেয়েদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে গোপনে বিয়ে ও শোষণ,আর অর্থ আদায়ের জন্য ধর্মের ভয় দেখানো
মত গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এই অপকর্মগুলো দীর্ঘদিন ধরে চললেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা দুর্বল বা বিলম্বিত।
শুধু ভণ্ড হুজুরদের অপরাধই নয়—দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সাথে দেখা যাচ্ছে—ছিনতাই ও ডাকাতি বৃদ্ধি,নারী ও শিশু নির্যাতন,জমি-বাড়ি দখল,মাদক ব্যবসার বিস্তার
,গ্রুপ ও মহল্লা-কেন্দ্রিক সন্ত্রাস…..সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও অপরাধীদের অনেকেই প্রভাবশালী মহলের ছায়ায় থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।তার ফলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে, আর ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।মানবাধিকার ও সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন—ধর্ম, পেশা বা পরিচয় নয়—অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি।তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, সমাজের বিশ্বাস, নিরাপত্তা এবং নৈতিক কাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—রাষ্ট্র শক্ত হাতে আইন প্রয়োগ করে সকল অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করবে, পরিচয় যাই হোক না কেন।
