বাংলাদেশে নারীর বৈষম্যমূলক অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক, অনলাইন সংবাদ বা খবরের কাগজ থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই আমরা নারীর প্রতি কোনো না কোনো সহিংসতার খবর দেখতে পাই। নারীর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহতা এবং সহিংসতা বন্ধে প্রচলিত আইনকাঠামোর ব্যর্থতা। জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে স্বামীর দ্বারা শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিশু, গর্ভবতী নারী, বিশেষভাবে সক্ষম নারী, কেউই যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণ সাধারণত যৌন তৃপ্তির জন্য নয়, বরং ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শনের প্রবৃত্তি থেকে করে থাকে। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের কোনো না কোনো ধাপে নারীরা পুরুষ দ্বারা অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতার শিকার হন। একজন অপরাধীর মনস্তত্ত্বর গভীরে কাজ করে নারীকে অধস্তন বিবেচনা করার প্রবণতা। সহিংসতায় শিকার নারী মানসিক অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই বেশ নাজুক থাকে। সামাজিকভাবে হীনতার শিকার হয়ে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। নারীর প্রতি একাধিক বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে, যা সংবিধানের সমতার নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনে দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সমাজে নারীর অবস্থানকে নিরাপদ করতে হলে ছেলেবেলা থেকেই গেঁথে দেওয়া আধিপত্যের মিথ ভেঙে ফেলা এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো যৌক্তিকভাবে পরিবর্তন করা, যেগুলো বেশিরভাগ সময়ই ধর্ম ও পরম্পরা প্রথার দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। নারীর প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রভাব যে কতটা ভয়ানক, তা নিজ পরিবারের সদস্য বা নিজের সঙ্গে হওয়ার আগে অনেকেই উপলব্ধি করতে পারে না।
