মাগুরায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কালা নামের (৪০) এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।
মাগুরা সদর উপজেলার ৬ নং রাঘবদাঁড় ইউনিয়নের বেঙ্গা বেরইল গ্রামের মৃত আশরাফুল ইসলাম ডাকনাম (শরিফুল) এর বাক প্রতিবন্ধী স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা বেগমের (৫৩)সাথে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত কালামিয়া একই গ্রামের মোল্লাপাড়ার রসমোল্লার ছেলে কালামিয়া যিনি দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বাকপ্রতিবন্ধী জাহানারা বেগমকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। কালা মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, সন্ত্রাসী, নির্যাতনকারী, নেশাখোর, একাধিক বিয়ে ও দুই বছর আগে নিজের মায়ের পেটে শাবল ঢুকানোর মত একাধিক অভিযোগ রয়েছে, অশ্র মামলায় জেল খেটেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায় এই কালামিয়ার বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার হওয়া বাক প্রতিবন্ধী মোছাম্মৎ জাহানারা বেগম মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাঁড় ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জাপুর গ্রামের মৃত আমিনুদ্দিন মৃধার মেয়ে।জাহানারা বেগমের সেজ ভাই আবুল খায়ের মন্টু ও নোয়া ভাই আলমগীর হোসেন মৃধা বলেন, আমার বোন জাহানারা একজন বাক প্রতিবন্ধী ঠিকমতো কথা বলতে পারে না ১৫ বছর আগে বেঙ্গা বেরইল গ্রামের শরিফুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়, একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩ বছর পরেই মৃগী রোগে স্বামী মারা যায়, তারপর থেকেই আমার বোন আমার বাবার বাড়িতে থাকে। তারা বলেন আমার বোন প্রতিবন্ধী হলেও স্বামীর টানে মাঝে মাঝেই মৃত স্বামীর গ্রামে যাওয়া আসা করে এবং মাঝে মাঝে কালামিয়ার বাড়ির সিঁড়িতে অবস্থান ন্যয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কালামিয়া জাহানারাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও নির্যাতন করে। যেহেতু জাহানারা একজন প্রতিবন্ধী আমরা অনেকবার নিষেধ করলেও মাঝে মাঝেই ওই গ্রামে যাই, গতকাল জাহানারা কালামিয়ার বাড়ির সিঁড়ির নিচে অবস্থান নিলে তাকে একাধিকবার ডাকলে সে না গেলে তাকে কাঠ দিয়ে তার মাথায়, কানে সমস্ত শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। ঘটনাটি আমরা জানতে পেরে জাহানারাকে সেখান থেকে নিয়ে আসি। আমরা কালামিয়ার কঠিন শাস্তি চাই যেন পরবর্তীতে আর কোন প্রতিবন্ধী বা কারো সাথে এমন জঘন্য কাজ না করতে পারে। তারা বলেন এখন পর্যন্ত কোন মামলা করেনি তবে মামলা করবো বলে ভাবছি।
এ ঘটনার তদন্ত অফিসার মোঃ মুখতার হোসেন আজকের পত্রিকা কে জানান, জাহানারা একজন বাকপ্রতিবন্ধী অভিযুক্ত কালামিয়া তাকে কাঠ দিয়ে মাথায় ও কানে আঘাত করলে সে সেখানে পড়ে যায় পরবর্তীতে একজনের ফোন পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং জাহানারাকে ভ্যানে করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিই ।এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্যাতনের শিকার হওয়া বাকপ্রতিবন্ধী জাহানারা বেগম মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
সুত্র: সকালের সময়
