আধুনিক সমাজে মানুষ কখনো কখনো এমন কিছু অমানবিক কাজ করে বসে যাহা তার মনুষ্যত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। আমরা যেই সমাজে বাস করিতেছি সেইখানে মানুষে-মানুষে বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সৌহার্দ-সম্প্রীতি যেন অভিধানের ভিতরেই আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। হোটেলকর্মী মোস্তফার দরিদ্রতা সুযোগে মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন এই প্রতিশ্রুতি ১১ বছরের শিশু মোহনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিকুর রহমানের বাসায় কাজে গিয়েছিল। পেটের দায়ে কাজে ঢোকার পর থেকেই গৃহকর্মী মোহনাকে নিয়মিত পৈশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে জর্জরিত করা হয়েছে। শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অন্যরা সামান্য কারণে গৃহকর্মীর ওপর যে কায়দায় নির্যাতন চালায় যা চোখে দেখলে গা শিউরে ওঠবে যে কারোরই, আগুনে তপ্ত খুন্তি দিয়ে মোহনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করা হয় তার শরীরের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। গৃহকর্তীর মা ডেকে ও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। এ রকম নির্যাতন করা কোন সুস্থ মানুষের কাজ নয়। এই নির্যাতনের মূল আসামী যত বড় ক্ষমতাবান হোক না কেন তার সুষ্ঠ বিচার হওয়া উচিত। টাকা বা ক্ষমতার কাছে যেন এর বিচার কার্যক্রম হেরে না যায়? জনপ্রিয় একটি গানের কথা দিয়ে শেষ করছি ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?’
