বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে জয় পরাজয় যাই হোক না কেন পুরুষতান্ত্রিক ক্ষোভ, প্রতিহিংসা, নির্যাতন সব নারীর প্রতি প্রয়োগ হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার কিন্তু দিন শেষে আমার দেখতে পাই অধিকাংশ সময় নারীরাই বেশি প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের শিকার। দুটি ঘটনা উল্লেখ করি
ঘটনা-১ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর দাবি তারা নৌকায় ভোট দিতে জোর করেছিলো, কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে ধানের শীষে ভোট দিয়েছি।
ঘটনা-২ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর হাতিয়া চাননন্দী ইউনিয়নে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে স্বামীকে বেধে রেখে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ঘরের দরজায় লাথির আওয়াজ হয়। তখন তিনি দরজা খুলতেই একই এলাকার তিন ব্যক্তি ঘরে ঢুকেই বলে, ‘এনসিপি কইরচস? এনসিপির স্বাদ আজকে দেখাচ্ছি।’ এরপর তাঁর স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা দুটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পছন্দের কারণে নারী বা শিশু সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে বড় অন্তরায়। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা খুবই জরুরী । যাতে ভবিষ্যতে নারী প্রতি প্রতিহিংসা ও নির্মম নির্যাতন বন্ধ হয়।
