নিজেকে তথ্যচিত্র নির্মাতা বলে দাবি করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ প্রতিবেদক হিসেবেও পরিচয় দেন। এই বিষয়গুলো দিয়ে প্রকাশ্যে আত্মপরিচয় করালেও মূলত তিনি একজন বিদ্রোহী এবং জঙ্গি প্রশিক্ষক। কীভাবে জঙ্গিদের আধুনিক যুদ্ধে দক্ষ করে তুলতে হবে, একটি সংগঠন বানিয়ে সেই প্রশিক্ষণের কাজই করেন তিনি। তার নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। তিনি মার্কিন নাগরিক। গত ১৩ মার্চ কলকাতা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
শুধু ভ্যানডাইক একা নন, উত্তরপ্রদেশের লখনউ বিমানবন্দর থেকে তিন ইউক্রেনীয় এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আরও তিন ইউক্রেনীয়কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা সকলেই ভ্যানডাইকের সঙ্গী। জঙ্গি প্রশিক্ষণে ভ্যানডাইকের সহযোগী।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এই সাতজন ভারতে আসেন। তারপর আসামের গুয়াহাটিতে যান। সেখান থেকে মিজোরাম। এরপর সেখান থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমার যান। ভারতের সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন জঙ্গি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দেন। মূলত ড্রোন হামলার প্রশিক্ষণ, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, কীভাবে আধুনিক কৌশলে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাতে হবে- এই সব প্রশিক্ষণ দেন। তারপর তারা আবার ভারতে ফিরে আসেন। ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি ছয় ইউক্রেনীয়কে লখনউ এবং দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, গ্রেফতারকৃতরা ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন নিয়ে এসেছিলেন। তবে গ্রেফতার হওয়ার সময় তাদের কাছে ড্রোন পাওয়া যায়নি। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ড্রোন মিয়ানমারে দিয়ে এসেছেন ভ্যানডাইক ও তার সহযোগীরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১১ সালে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ভ্যানডাইক। তিনি লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দেন। গ্রেফতার হন। ছ’মাস জেল খাটেন। তারপর জেল ভেঙে পালান। লিবিয়া থেকে সিরিয়ায় চলে আসেন তিনি। সেখানে তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে ভ্যানডাইকের তথ্যচিত্র ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতে। পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলোর পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করতেন ভ্যানডাইক। তাকে জঙ্গি তকমা দেয় সিরিয়া প্রশাসন। সেখান থেকে পালিয়ে ইরাকে চলে আসেন ভ্যানডাইক। ২০১৪ সালে তার দুই সাংবাদিক বন্ধু আইএস জঙ্গিদের হাতে খুন হন। এই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে নিজের একটি সংগঠন গড়ে তুলতে। যে সংগঠনের নাম দেন ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’। এই সংগঠনের মাধ্যমে সেনা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়া করা সেনা সরবরাহ শুরু করেন ভ্যানডাইক।
২০২২ সালে তার সংস্থা ইউক্রেনকে সেনা ভাড়া দেওয়া শুরু করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। তারপর সেখান থেকে তার সংস্থার আরও সম্প্রসারণ হয়। শুরু হয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ। ভ্যানডাইক তাদের আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস
সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
