বাংলাদেশে গড়ে প্রতি কয়েক ঘণ্টায় একজন নারী যৌন সহিংসতার শিকার হন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশ্লেষনে দেখায় যায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক লজ্জা, ভয় ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবারই অভিযোগ করতে চান না। এই সংবাদ গুলো গণ্মাধ্যমে আসলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত। যৌন সহিংসতার মামলার জন্য বিশেষায়িত দ্রুত বিচার ব্যবস্থা প্রয়োজন। অনেক দেশে এ ধরনের মামলার জন্য আলাদা আদালত রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হয়।
বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলায় সমস্যা এখানেই। তদন্তে বিলম্ব, প্রমাণ সংগ্রহে দুর্বলতা, সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া অধিকাংশ মামলাকে দুর্বল করে দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধ কমাতে আইনের কঠোরতার চেয়ে বেশি কার্যকর হলো বিচারের নিশ্চয়তা। অর্থাৎ অপরাধী যদি নিশ্চিতভাবে জানে যে সে ধরা পড়বে এবং দ্রুত শাস্তি পাবে, তখন অপরাধের প্রবণতা কমতে শুরু করে।
বাংলাদেশেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রয়েছে এবং ১৮০ দিনের মধ্যে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এসব ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। কিন্তু, তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহসহ নানা দুর্বলতায় অনেক ক্ষেত্রেই আসামিরা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছে। কিংবা মামলার দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগে জামিন পেয়ে বাদীর ওপর চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে সমাজে কর্মজীবি নারীরা রাতে নিরাপদে বাসায় ফিরতে না পারেন, যদি শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পথে নিরাপদ না থাকে, তাহলে বাস্তবেই কি নারীরা নিরাপদ? উন্নয়নের আগে অবশ্যই মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
