২০০০ সালে আত্মপ্রকাশ করে হিযবুত তাহরীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এই সংগঠনের নেতৃত্বে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে সদস্য সংগ্রহ করা হয়। হিযবুত তাহরীরের উদেশ্য বাংলাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। তাই সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং শুরু করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর। গোপনে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে হিযবুত তাহরীর। তারা এখন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সদস্য বানাচ্ছে। সংসদ ভবনের সামনে এই সংগঠনের মিছিলে ঢাকার অনেক নামিদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে। ৫ আগস্টের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক বেশি ট্রমাটাইজড হয়ে পড়ায় হিযবুত তাহরীর সাংগঠনিক কার্যক্রম রাজধানীতে তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিছুটা অ্যাকটিভ হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে হিযবুত তাহরীরের মিডিয়া শাখার প্রধান ইমতিয়াজ সেলিমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি। আইজিপির কড়া বার্তার পাঁচ দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হন নিষিদ্ধ এই সংগঠনটির শীর্ষ নেতা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ সংগঠন। তাদের উগ্রবাদী উগ্রবাদী তৎপরতায় বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৯টি দেশে হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সরকারও হিযবুত তাহরীরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়। হিযবুত তাহরীর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘কুফরি’ বলে আখ্যায়িত করে। এসংগঠনটি দেশের সেনাবাহিনীকে ক্যু করার জন্য উসকানিমূলক বক্তৃতা-বিবৃতি প্রচার করে।
