দেশ রূপান্তর পত্রিকার আজকের প্রধান খবর- ভোটের মাঠে রোহিঙ্গা ও জঙ্গি। খবরে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজারে অবৈধ ভোটার ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
কক্সবাজার জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ। এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রোহিঙ্গা বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮০ সাল থেকে অসাধু কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।
বর্তমানে পুরো কক্সবাজার জেলাতেই রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে রয়েছে। ভোটার হওয়ার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তাদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সেখানে নতুন করে একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকায় কয়েকজনকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে জঙ্গিরা। গত সপ্তাহে যশোরে এক সদস্যের বাড়ি থেকে ১০টি গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিনদিন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন, সেজন্য কেন্দ্র ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা যাতে আগেই প্রতিহত করা যায়, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা, প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জন্য ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্র দখল, জোরপূর্বক ভোট দেয়া কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দায়িত্বও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই থাকবে।
এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন এবং বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বণিক বার্তা
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
