নেত্রকোনার মদনে আলোচিত মাদ্রাসার ১২ বছরের শিশুশিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার চার মাস পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনা আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিটটি দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্তারুজ্জামান।
এদিন বিকেলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন করীম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ ওরফে সাগর কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয় ১২ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থী। ধর্ষণের শিকার হয়ে সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে ওই নবজাতকের জৈবিক বাবা অভিযুক্ত আমানউল্লাহ। আজ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এতে চারজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এজাহারে জানা গেছে, উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিজ মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন আমানউল্লাহ। যে কারণে শিশুটি কাউকে কিছু না না বললেও একপর্যায়ে শিশুর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে শিশুর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ রেখে বাবার বাড়ি মদনে ছুটে আসেন। গত ১৮ এপ্রিল মেয়েকে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল আমানউল্লাহ ও তার ভাই মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দয়েরের পর গত ৬ মে র্যাব-১৪ অভিযুক্ত আমানউল্লাহকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করে মদন থানায় হস্তান্তর করে। তিন দিনের রিমান্ডে পুলিশের হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে আদালতের নির্দেশে সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ওই অন্তঃসত্ত্বা শিশুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তে তাকে সিলেটের একটি সেফহোমে রাখা হয়।
এদিকে, ২ জুলাই ধর্ষণের শিকার শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এরপর ২৮ জুলাই জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতকের সঙ্গে আমানউল্লাহর ডিএনএ ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে যায়। আজ এ মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
