৯ এপ্রিল: ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিষয়টি প্রকাশ হয়। মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী, ঘটনার সময় তার বয়স ৪৩ বছর।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে। ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসদরের বাসিন্দা। ঘটনার পর তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য, তার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি একটি ছোট টিনের ছাপরাঘরে, যেখানে তিনি একমাত্র ছেলের সঙ্গে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি জানান, ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি ও বিধবাভাতার কার্ড করানোর আশ্বাস দেন সুজন শেখ। ২ এপ্রিল সকালে রিকশা যোগে সুজনের সঙ্গে রওয়ানা হন। এরপর শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসটার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নামানো হয়। এরপর আবাসিক হোটেলের সামনে নিয়ে গিয়ে জানানো হয়, এখানেই অফিস। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর অসুস্থ হয়ে পড়া ভুক্তভোগী নারী চারদিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওইদিন উত্তেজিত হয়ে একটি লাথি মেরেছিলাম। তাই আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মামলা করেছেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সুত্র: সমকাল
