সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে থেকে ৩০ বছর বয়সী ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি নামে ওই যুবক একজন ‘ধারাবাহিক যৌন সহিংসতা অপরাধী’ বা ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। তার দ্বারা গত এক মাসে কমপক্ষে ১৩ জন নারী ধর্ষণ, পর্নো ভিডিও তৈরি ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে পুলিশ ১০ জন ভুক্তভোগীর খোঁজ পেয়েছে; যাদের বেশিরভাগের বাড়ি রাজধানীর আরেক প্রান্ত মিরপুরে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা এবং চারটি জিডি হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গ্রেপ্তার রাব্বির গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে। তবে তিনি নারায়ণগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। প্রতারণার মাধ্যমে নারীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থই এখন পর্যন্ত তার উপার্জনের একমাত্র উৎস।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা সামী বলেন, “রাব্বির শুরুটা কীভাবে সেটা আমরা জানতে পারিনি। তবে এখন পর্যন্ত তার দ্বারা ভুক্তভোগী ১০ জনের খোঁজ পেয়েছি। এদের সবাই যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন না; কেউ কেউ পর্নোগ্রাফি এবং প্রতারণা শিকার।”
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মূলত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাব্বি নারী সেজে অন্য নারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতেন। তিনি যে নারীকে ব্ল্যাকমেইল করেন, তার ফোন ‘ছিনিয়ে’ নিতেন। তারপর ফোনে থাকা ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার শুরু করতেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই তার অন্য নারী বন্ধুদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। নারী কণ্ঠে কথা বলে, তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন।
কেউ ‘ফাঁদে’ পা দিলে উপহার পৌঁছানোর কথা বলে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলতেন। ভুক্তভোগী তরুণী রওনা হলে রাব্বি শেষ মুহূর্তে বলতেন, তিনি আসতে পারছেন না। তার চাচাত বা মামাত ভাই গিয়ে তাকে নিয়ে আসবেন। এরপর রাব্বি নিজেই সেই ভাই সেজে তরুণীদের যাত্রাবাড়ীতে নিজের ‘আস্তানায়’ নিয়ে যেতেন। যাত্রাবাড়ি এলাকার দুটি বাসা এসব কাজে ব্যবহার হত।
ভুক্তভোগীকে নিজের ‘আস্তানায়’ নিয়ে ধর্ষণ এবং ভয় দেখিয়ে পর্নো ভিডিও ধারণ করতেন রাব্বি। পরে সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেন। সেই ফোন নিয়ে আবার একই কায়দায় শুরু হত পরের ‘শিকার’ খোঁজা।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এক তরুণীকে নারী সেজে রাব্বি ফোন করে বলেন, তার বাড়িওয়ালার ছেলে তাকে পছন্দ করে। এরপর রাব্বি নিজেই ‘বাড়িওয়ালার ছেলে’ পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত হয় এবং ওই তরুণী প্রতারণার শিকার হয়ে মোবাইল ফোন হারান।
বিষয়টি ওই তরুণী পুলিশকে জানালে মোবাইল ফোন হারানোর তদন্তের সূত্র ধরে রাব্বির খোঁজ মেলে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাব্বি তেমন কিছু স্বীকার করেননি। শুধু বলেছেন, গত এক মাসে অন্তত ১৩ জন নারীর সঙ্গে প্রতারণায় যুক্ত তিনি। পুলিশের শঙ্কা, ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা সামী বলেন, “এই ব্যক্তি (রাব্বি) কিছুই করেন না। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন বিক্রির টাকা এবং প্রতারণা করে আদায় করা টাকা তার আয়ের উৎস। তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে। বর্তমান স্ত্রীকেও রাব্বি প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছেন।”
সুত্রঃ বিডি নিউজ
