২০১৬ সালের ২০শে মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তনু সেনানিবাসের একটি বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যেতেন। সেই বাসার পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন বিকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিলো, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তনুর মরদেহে দুই দফায় ময়না তদন্ত হয়েছে। প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি এবং তনু কেন মারা গেছে তাও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয় নি। তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে তার কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জোরালো আন্দোলন করেছিলো। ফলে দ্বিতীয় দফায় কবর থেকে মরদেহ তুলে ময়না তদন্ত হয়েছিল। ২০১৬ সালে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি নিহত তনুর শরীর থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানায়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে মোট চারজনের ডিএনএ প্রোফাইলের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রোফাইল তনুর রক্তের, যেটি তাঁর দাঁত থেকে করা ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলে গেছে। অপর তিনটি প্রোফাইল তিনজন পুরুষের, যাতে তিনজনের স্পার্মাটোজোয়া বা বীর্যের আলামত পাওয়া গেছে। ফলে সিআইডি সন্দেহ করছে হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। সবশেষ ২০২০ সালের ২১শে অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই-এর কাছে স্থানান্তর করা হয়। তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
