২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে নানা ধরনের জঙ্গি তৎপরতার বিষয়গুলো সামনে এসেছিল। এর আগে বিএনপি সরকারের আমলেও সিরিজ বোমা হামলাসহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর নানা কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুলশানের হলি আর্টিজান ছিল অন্যতম বড় ঘটনা। ওই ঘটনার পর জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের নানা তৎপরতা ও বেশ কিছু অভিযান লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
পাঁচই অগাস্টের পট পরিবর্তনের পর জঙ্গিবাদের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত শত শত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে সন্দেহভাজন, বিচারাধীন, এমনকি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও রয়েছেন।
গবেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ কিংবা এর আগের বিএনপির সরকার সব আমলেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ছিল। কিন্তু ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনগুলোর তৎপরতা ভিন্নভাবে সামনে এসেছে।
গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জঙ্গিরা এক ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অনেক জায়গায় বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে তারা কলেমা লেখা কালো পতাকা ব্যবহারও করেছেন। আইডেন্টিটি প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন”।
এ সময় এই ধরনের উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের তৎপরতা অনেকটা শক্ত একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন মি. লিটন।
যে কারণে এই গবেষক মনে করেন, বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে জঙ্গি হামলা নিয়ে নিয়ে সর্তক করা হয়েছে সেটি অমূলক নয়। তার মতে যে কোনো সময় এধরনের সন্ত্রাসী হামলা বা এই জাতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে।
যদিও এটি নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত আছে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, দেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বা তৎপরতা যে পরিমাণ রয়েছে তার চেয়ে আলোচনায় আসছে অনেক বেশি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটা হচ্ছে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য, এটা একটা ফোকাস। একটা বার্নিং ইস্যুকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য আরেকটা নন বার্নিং ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়। এবারো মনে হয় তাই হচ্ছে”।
সুত্রঃ বিসিবি বাংলা
