মালিতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করার সময় প্রায় ৪০ জন ইসলামপন্থী জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে হামলায় অন্তত ১০ সেনাও নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এএফপি।
রোববার দেশটির সান শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)। সংগঠনটি হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা সামরিক ঘাঁটিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।
তবে সেনাবাহিনী ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, হামলার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাদের সাময়িকভাবে পিছু হটতে হয়েছিল।
সানের ২৩তম রেজিমেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এল ওমরানি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, শত্রুদের নির্মূল করা হয়েছে এবং হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেনারা কোথাও যায়নি এবং সামরিক ঘাঁটিটি এখনো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরএফআইয়ের বরাতে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৫টার দিকে হামলা শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। মোটরসাইকেল ও হেঁটে জঙ্গিরা ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। কয়েকজন সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ঘাঁটিতে ঢোকার চেষ্টা করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, জঙ্গিরা ঘাঁটিতে ঢুকে বেশ কিছু সময় সেটির নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে সেনাদের পাল্টা আক্রমণে কয়েকজন নিহত হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ কেউ আশপাশের বাড়িতে লুকিয়ে পড়ে, আবার কেউ বনে চলে যায়।
সেনাবাহিনী দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরটিএমকে জানিয়েছে, জঙ্গিরা ড্রোন, ভারী মেশিনগান ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে ঘাঁটির নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করে।
২০১২ সাল থেকে ইসলামপন্থী বিদ্রোহে জর্জরিত মালির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ এখনো সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও জঙ্গি হামলা বাড়ছে।
গত এপ্রিলে উত্তর মালিতে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি জোট সমন্বিত হামলা চালায়। ওই হামলার সময় রাজধানী বামাকোর কাছে আত্মঘাতী ট্রাকবোমা হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হন।
জেএনআইএম সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে। আগে প্রধানত উত্তর মালিতে সক্রিয় থাকলেও এখন দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২০ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা জেনারেল আসিমি গোইতার সরকারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতা দখলের পর মালি ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি
