মে দিবস শ্রমিকের অধিকার আদায়ের বিজয়ের দিন হলেও এই বিজয় থেকে বঞ্চিত নারী শ্রমিকরা। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পরও নারী হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বৈষ্যমের শিকার । ইটের ভাটায় কাজ, ধান লাগানো, ধান কাটা, ধান মাড়াই, মাটি কাটা, হোটেল, রাইচ মিল, চাতাল, বিড়ি ফ্যাক্টরি, রাজমিস্ত্রির জোগালী, পাথর ভাঙার কাজসহ সবরকম ভারী কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা সমানতালে কাজ করে। বিনিময়ে মালিকরা মজুরি দেওয়ার সময় বৈষ্যম করেন যেখানে পুরুষ শ্রমিক যে কাজ করে পায় ৮০০-৭০০ টাকা সেখানে নারী শ্রমিকরা পায় ৫০০-৪০০টাকা। প্রতি বছর শ্রমিক দিবস, নারী দিসব পালিত হয়, সব কাজে নারী পুরুষ সমঅধিকারের কথা বলা হয়। অথচ ন্যায্য মজুরির ব্যাপারে শুধু নারীদের বৈষ্যম।
পোষাক শিল্পে প্রায় আড়াই দশক ধরে দেশে রফতানি আয়ে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি। শতকরা ৮০ ভাগই নারী পোষাক শ্রমিক, প্রায় ১২ লাখ নারী এখন এ খাতে নিয়োজিত। বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্প খাতে নারী শ্রমিক বেশি। দুর্ভাগ্য হলো দেশে নারীদের উপযুক্ত মর্যাদা ও মজুরির ন্যায্য অধিকার দেয়া হচ্ছে না। পরিশ্রম করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিক দিবসকে ঘিরে নারী শ্রমিকদের একটাই প্রত্যাশা সমান কাজের জন্য সমান মজুরি।
