জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে দেশে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকিতে নড়েচড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ৫ আগস্টের পর জেল পলাতক অনেক জঙ্গির বাইরে চলে আসা এবং নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের নাশকতা ও অপতৎপরতার বিষয়টিকে সংবেদনশীল বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে আইন- শৃংখলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ ওরফে সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুজন ‘সেনা সদস্যের’ নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ ও হামলা চালাতে পারে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক হামলা পরিকল্পনায় থাকা জঙ্গিদের মধ্যে কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গিরা রয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের পাশাপাশি দেশের বাইরের দুটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এজেন্টরা নানা সুযোগে বাংলাদেশে ঢুকছে। দেশের বাইরের উগ্রপন্থী জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করতে গিয়ে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক তথ্য পাওয়া যায়, এলইটি ও টিটিপি বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা বুঝতে পারে, দেড় বছর ধরে জঙ্গি না থাকার যে বয়ান তৈরির চেষ্টা চলেছে, তা আসলে সঠিক নয়। অথচ জঙ্গি সংগঠন বা জঙ্গিবাদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা একটু লেখালেখি করি তাদের গুষ্টি উদ্বার করা হয়। অপরাধ বিশ্লেষক ও জঙ্গি নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট দেশব্যাপী একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন জেএমবি শক্তি প্রদর্শন করে; যদিও এর আগেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর উৎপত্তি। এরপর এখনো জঙ্গিবাদের প্রকৃত অবস্থা বদলায়নি; বরং বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আরো কৌশলী হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে—এমন দাবি করা অমূলক। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে জঙ্গিরা এখন রয়েছে রিলাক্স মুডে। কারণ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল লোকেরা যখন বলে ‘দেশে জঙ্গি নেই’ জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কিসের জঙ্গি!
