দেশে জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে একই সময়ে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রকাশিত মাসিক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমএসএফ জানায়, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও জুলাই মাসে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩০৬টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মোট ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, সংখ্যাগতভাবে কিছুটা কমলেও নির্যাতনের ধরন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে হয়েছে ৯০টি, যেখানে জুন মাসে এ সংখ্যা ছিল ৬৮। অর্থাৎ এক মাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও সামান্য বেড়ে ২২টিতে পৌঁছেছে।সংবাদ প্রতিবেদন
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে আত্মহত্যার ঘটনা। জুন মাসে যেখানে ১৭টি আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। এমএসএফের মতে, সামাজিক চাপ, সহিংসতা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এ ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা গেছে। জুলাই মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬টি থেকে কমে ৭টিতে নেমেছে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫টি থেকে কমে হয়েছে ৩টি। এছাড়া শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫৬টি থেকে কমে ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। নারী ও শিশু হত্যার ঘটনাও ৭৬টি থেকে কমে ৫২টিতে নেমে এসেছে। তবে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩টি। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা জুন ও জুলাই—দুই মাসেই একটি করে ঘটেছে।
এমএসএফের পর্যবেক্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ, আত্মহত্যা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এখনো গভীর উদ্বেগের কারণ। এসব অপরাধ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
চ্যানেল ২৪ ডট কম
