২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়গুলো সামনে এসেছিল বিশেষ করে গুলশানের হলি আর্টিজান ছিল অন্যতম বড় ঘটনা। ওই ঘটনার পর জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের নানা তৎপরতা ও বেশ কিছু অভিযান লক্ষ্য করা গিয়েছিল।। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জঙ্গিরা এক ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। রাজধানীর মতো জায়গায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তেহরি বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে তারা কলেমা লেখা কালো পতাকা ব্যবহারও করেছেন। আইডেন্টিটি প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। জেল ভেঙ্গে শতাধিক ভয়ংকর জঙ্গির অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে পালিয়েছেন। জামিনে মুক্ত হয়েছে উগ্র মৌলবাদ ও ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের তৎপরতা অনেকটা শক্ত অবস্থান সৃষ্টি হয়। অর্ন্তবর্তী সরকার জঙ্গিবাদ নিয়ে মন্তব্য ছিল দেশে কোন জঙ্গি নেই সব নাটক।
কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ‘জঙ্গি’ ইস্যুটি শুধু সামনে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তবে কি দেশে আবার সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক? নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোয় কাজ করছে না। কৌশলে অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন, ‘লোন উলফ’ বা একক হামলাকারী তৈরি, স্বল্প সক্ষমতার বিস্ফোরক বা গোপন অস্ত্র প্রস্তুত এবং এনক্রিপ্টেড বা গুপ্ত অ্যাপের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ। জঙ্গিবাদ বর্তমানে দৃশ্যমান না থাকলেও জঙ্গিবাদের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। হয়তো মৌলবাদী কিছু দল ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করবে জঙ্গি বলতে কিছু নেই। এটা সরকারের ষ্ট্যান্ডবাজি।
