বাংলাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে, তাদের জঙ্গি কার্যক্রম। যেখানে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারে সংগঠনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যেখানে নব্য জেএমবির একটি চক্রের বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় যে দেশে ফের নতুন করে জঙ্গি উত্থানের পথে এগোচ্ছে।
রাজধানীতে প্রকাশ্যে মিছিল: ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে৷ এসব মিছিল থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ, ইসলামের নবীকে কটূক্তির প্রতিবাদ কিংবা ইসলামি খেলাফত কায়েমেরও দাবি তুলতে দেখা গেছে। এবং বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি বা উগ্রবাদী কিছু কর্মকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসে। ঐ বছরই রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর একটি মিছিল বের করলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মাদ্রাসায় বোমা বিষ্ফোরণ: জানুয়ারিতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা এবং শরিয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে৷ ঢাকার কেরাণীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গিবাদ মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে৷ এই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে । ‘৫ আগস্টের পর জঙ্গিদের উত্থান ঘটেছে সেটা ধারণা করা যায়।
বোমা উদ্ধার: ২৪ জুলাই ঢাকার মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমাও উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরের সপ্তাহে ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণ ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। আগস্ট মাসে ১২ তারিখে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে একটি সন্দেহজনক প্রেশার কুকার বা ‘কেটলি বোমা’ এবং বিপুল পরিমাণ গান পাউডারসহ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রেড অ্যালার্ট জারি: এসব ঘটনাক্রমের মধ্যেই কদিন আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলার আশঙ্কা থেকে সারা দেশে সতর্কতা জারি করে বার্তা দিয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশ সদরদপ্তর। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কি জঙ্গিবাদের নতুন ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে?
