বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁটি সন্ধ্যার পর পরই সবচেয়ে নৃশংস ও নারকীয় জঙ্গি হামলায় মুহূর্তেই এক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়। জঙ্গিদের সেই ১২ ঘন্টার ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও রুদ্ধশ্বাস জিম্মি সংকটের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল পুরো জাতি। সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে শেষমেশ সেই জিম্মিদশার অবসান ঘটলেও, ততক্ষণে জঙ্গিদের হাতে ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। জঙ্গিদের গুলি ও বোমাবর্ষণে আহত হন পুলিশের আরও অনেক সদস্য। এ ঘটনার পর দেশের বুদ্ধিজীবি ও বিশ্লষকদের প্রথাগত চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে একটি নতুন সত্য উন্মোচিত হয়— জঙ্গিবাদের জড়িত শুধু মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্ররা বা মৌলবাদী গোষ্টীরা নয়, সমাজের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও জঙ্গি-উগ্রবাদে জড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে এই হামলা স্পষ্ট করে দেয় যে, স্থান যতই নিরাপদ বা সুরক্ষিত হোক না কেন, নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ছাড়া ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই যায়। ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিগত সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া তিন শতাধিক উগ্রপন্থী ভয়ংকার জঙ্গিনেতা ও সহযোগি সদস্যরা আধুনিক আগ্নোস্ত্র নিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ায় নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যাদের অধিকাংশকেই এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু, আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন ‘টিটিপি’র সঙ্গে যোগাযোগ এবং জেএমবি সদস্যদের আটকের ঘটনা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একটি ভিন্ন ও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্যোসাল মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়া বলা হয়েছে দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই। অথচ মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজধানীতে প্রকাশ্য সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে। সেখানে ও কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরাট উপস্থিতি লক্ষ্য গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর তাদের কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে, তবুও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংগঠনটির এই প্রকাশ্য তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
