মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যা—দায় কার? স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা ও তদন্ত ঘিরে সামনে আসছে নানা প্রশ্ন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা জানতে চলছে তদন্ত। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পরে ওই তরুণীর পরিচয় মরিয়ম খাতুন হিসেবে সামনে আসে। কতিথ আছে চাকুরীর প্রলোভন দিয়ে এমপি সাহেব মরিয়ম খাতুনকে ব্ল্যাকমেইল করেন।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখন তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেগুলো মরিয়মের লেখা কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় তাঁর স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। মরিয়ম ছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
এখন মূল প্রশ্ন—মরিয়ম কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন? তাঁর মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা বা নির্যাতনের ভূমিকা ছিল কি না, কথিত চিরকুটটি তাঁর নিজের লেখা কি না এবং ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।
