সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সতর্কবার্তা দিয়ে একটি সন্ত্রাসী সতর্কতা জারি করে যার মাধ্যমে সাধারন জনগণের মধ্যে দেশে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি প্রতিয়মান হচ্ছে। চলতি বছরের ১২ আগস্ট ঢাকার সাভার এলাকা থেকে পুলিশ একটি হাতে তৈরি প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঢাকা ও এর আশপাশের একাধিক জায়গায় কয়েক মাসের মধ্যে বোমা কিংবা বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের একাধিক ঘটনা গণমাধ্যমে আসায়। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সেল বা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) চেষ্টা চালাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দেশের স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে জামায়াতে-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামটি আবার সামনে এসেছে। জেএমবি-র সদস্যরা মূলত কওয়ামী মাদ্রাসার ছাত্র হলেও, মৌলবাদী ও ধর্মীয় খপরে ফেলে শহরের শিক্ষিত ও মেধাবী ছাত্র ও তরুণদের দলে নিয়োগ দিচ্ছে। দলটি কিছুকাল নিস্ক্রিয় থাকলেও এখন বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করা চেষ্টা করছে, যদিও এর কার্যক্রম বিকেন্দ্রীভূতই রয়েছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংঘাতের মতো পরিস্থিতিকে জেএমবি শুধু সদস্য সংগ্রহ ও তহবিল সংগ্রহের পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে দেশের মধ্যে সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রাখছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম গত বছর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানে (টিটিপি) বাংলাদেশি নাগরিকদের যোগদানের বিষয়টি প্রতিবেদন করে তুলে ধরে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, নব্য জেএমবি সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ এবং সবশেষ আল কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের বার্তা- এসব ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ভালো বার্তা দেয় না বলেই মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
