২০০১ সালের পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং জঙ্গি সর্ম্পকে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়েছিল। এই সময়ে বড় দুটি উগ্রবাদ ও জঙ্গি সংগঠনের উত্থান ঘটে৷ এদের অন্যতম হচ্ছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ বা হুজিবি৷ অন্যটি জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ৬৪টি জেলায় বোমা হামলা, উদিচীতে বোমা, ব্লগার হত্যা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ নানা রাজনৈতিক জনসভায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে এর ধারাবাহিকতায় হলি আর্টিজান হামলায়। বিগত সরকারের আমলে জঙ্গি হামলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ৫ আগষ্টের পর প্রায় হাজারের বেশ বন্দি জেল থেকে পালিয়েছিল, যাদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিরা ছিল। যাদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রায় দুই বছরে তাদের এই নেটওয়ার্ক ফের সরব হয়েছে। মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদীদের অর্থের কোনও অভাব নেই। তাদের বৈদেশিক অর্থের প্রধান উৎস হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা এবং প্রবাসীদের অনুদান। এছাড়া মৌলবাদীরা নিজেরাও বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের মূলধন বৃদ্ধি করে নানাধরনের নাশকতামূলক কাজে ব্যয় চালিয়ে যাচ্ছে। মৌলবাদীদের মদদে জঙ্গিবাদীরা তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘প্রেসার কুকার’ বোমা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার তারই ইঙ্গিত দেয়।
মৌলবাদী ও জঙ্গিগোষ্টির মদদদাতারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, রিয়েল এস্টেট, পরিবহন এবং এনজিওর রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। জঙ্গিরা শুধু দেশের ভেতরকার আয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিদেশ থেকেও বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং দাতব্য বা কল্যাণমূলক সংস্থার অনুদানের আড়ালে তহবিল মিলছে তাদের। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদীদের অর্থ রোজগার অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রবাসী কর্মী ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের তহবিলে নিয়মিত অর্থ দিয়ে থাকেন।এছাড়াও ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও প্রবাসীরা কেউ কেউ দেশের মৌলবাদীদের নিয়মিত অর্থ পাঠাচ্ছেন। তাই সময় থাকতে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করতে হবে। যাতে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ, চরমপন্থি ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠতে না পারে।
