দেশে এখনো কমপক্ষে প্রায় ২০টি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ছয়টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গোয়েন্দা ও র্যাব সূত্রমতে নিষিদ্ধ এসব সংগঠনগুলোর প্রায় দুই হাজার সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবার বিভিন্ন সময় জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে তিন শতাধিক সদস্য।
সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলো উগ্রবাদ ও জঙ্গি কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে। চলছে গোপনে আদর্শিক প্রশিক্ষণের কাজ। এজন্য তারা খুবই গোপনে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মুখে জঙ্গি সংগঠনের নেতারা ছদ্মবেশ ও বারবার তাদের আস্তানা বদল করছে।
যে ছয়টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে, সেগুলো হলো জামা’আতুল মুজাহিদিন (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এটিবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), শাহাদত-ই-আল হিকমা ও হিযবুত তাহেরী । নিষিদ্ধের সময় তো বটেই এখনো এই ছয় সংগঠন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও জঙ্গি সংগঠন হিযবুল মুজাহিদিন, আল্লাহর দল, শহীদ হামজা ব্রিগেড, হিযবুত তাওহীদ, আল হিকমা, তাআমীর উদ্দীন, লস্কর-ই-তৈয়বা, আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্স, জয়শ-ই-মোহাম্মদ, ইসলাম ও মুসলিম, তাসাউফ মহল ও সম্প্রতি খোঁজ পাওয়া আনসার আল ইসলামসহ দেশে অন্তত ২০টি জঙ্গি সংগঠন এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
বিগত সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া এসব জঙ্গি সংগঠনের তিন শতাধিক ভয়ংকর জঙ্গি জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে অন্তত দুই ডজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি রয়েছে, যারা সমরাস্ত্র পরিচালনাসহ শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠনগুলোর উত্থানের নেপথ্যে জামিনে পলাতক দুর্ধর্ষ জঙ্গিরাই কলকাঠি নাড়ছে।
